1. yellowhost.club@gmail.com : Tara Bangla News :
  • সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

গভীর রাতে জেগে ওঠে চা-বাগান

  • আপডেট: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১
  • ১২৬

চা-বাগান সাধারণত দিনের বেলায় কর্মব্যস্ত থাকে। তবে পঞ্চগড়ের চা-বাগানগুলোতে রাতের বেলায় ব্যস্ততা বেড়েছে বছরখানেক। এখানকার শ্রমিকরা কাজ শুরুই করেন রাত ২টার দিকে।
গভীর রাত। চারপাশে ঘোর অন্ধকার। আলো চা-বাগানের ভেতর। দূর থেকে মনে হয় অসংখ্য জোনাকি পোকা দখলে নিয়েছে সবুজ চায়ের বাগান। কাছে গেলে এ ভ্রম কাটতে শুরু করে। আরও স্পষ্ট হয় আলো; পেছনের অবয়ব। একটা পর্যায়ে বোঝা যায়, সে আলো আসলে জোনাকি পোকার নয়, শ্রমিকদের মাথায় বাঁধা সার্চ বা মোবাইল ফোনের লাইটের।

চা-বাগান সাধারণত দিনের বেলায় কর্মব্যস্ত থাকে। তবে পঞ্চগড়ের চা-বাগানগুলোয় রাতের বেলায় এমন ব্যস্ততা বেড়েছে বছরখানেক। অন্য চা-বাগানের শ্রমিকরা রাতে ঘুমালেও এখানকার শ্রমিকরা কাজ শুরুই করেন রাত ২টায়। এভাবে রাতের অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা ভেদ করে চা-পাতা তুলতে তুলতে সকাল হয়ে যায়। রোদ-গরম না থাকায় এ সময় বেশি পরিমাণ পাতা সংগ্রহ করতে পারেন তারা। এভাবে সকাল ১০টা পর্যন্ত চা-পাতা তুলে সেগুলো জমা দিয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পান। দিনের বেলা অন্য কাজ করার সুযোগও পান তারা।

কেন এই ব্যতিক্রম:

চা-বাগানের মালিকরা বলছেন, তীব্র গরমের কারণে দিনের বেলায় তোলা চা-পাতা শুকিয়ে যায়। শুকনো পাতা থেকে ভালো চা হয় না। শ্রমিকদেরও কাজ করতে কষ্ট হয়। তাই দুই পক্ষের সমঝোতায় রাতে পাতা তোলার ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে খুশি শ্রমিকরাও। দিনে অন্য কাজ করে রাতে পাতা তুলতে পারেন। ফলে বেড়েছে তাদের আয়; বেড়েছে পরিবারের সচ্ছলতা।

শ্রমিকরা জানান, আগে দিনের বেলায় সূর্যের কড়া তাপ সয়ে চা-পাতা তুলতে বেশ কষ্ট হতো। তাপে পাতাও শুকিয়ে যেত। কারখানার মালিকরা শুকনা পাতা নিতে চাইতেন না। তাই সমঝোতার ভিত্তিতে বছরখানেক শ্রমিকরা রাতে চা-পাতা তোলার কাজ করছেন। শুরুর দিকে অল্প কয়েকজন শ্রমিক এ সময় কাজ করলেও দিন দিন বাড়ছে তাদের সংখ্যা।

পঞ্চগড় সদরের চা-শ্রমিক বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি বছরখানেক রাতে চা-পাতা তোলার কাজ করছি। রাত ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কাজ করি আমরা। এতে জনপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি পাই।
‘আবার দিনের বেলায় অন্য কাজ করতে পারি। এভাবে দুই কাজ করে আমাদের সংসার আগের চেয়ে অনেক ভালো চলছে।’

সদরের আরেক চা-শ্রমিক ফারুক ইসলাম বলেন, ‘আগে দিনে চা-পাতা তোলার কাজ করতাম। কিন্তু প্রচণ্ড রোদের কারণে বেশিক্ষণ তোলা যেত না। বেশি পাতা তুলতেও পারতাম না। রাতে পরিবেশ শান্ত থাকে, রোদের ভয় নাই। তাই রাতে চা-পাতা তোলা শুরু করি। মাথার মধ্যে লাইট বেঁধে নিয়ে কাজ শুরু করি। রাতে দ্রুত ও আরামে কাজ করা যায়।’

আরেক চা-শ্রমিক মহিদুল ইসলাম জানান, চা মৌসুমে প্রতি রাতে মাত্র আট ঘণ্টা কাজ করলেই ২০০ থেকে ২৫০ কেজি পাতা তোলা যায়। এ জন্য মজুরি পাওয়া যায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এসব চা-শ্রমিক আরও জানান, রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার আগেই উঠে পড়েন। এরপর সার্চলাইট কিংবা মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে তা মাথায় বেঁধে ছোটেন চা-বাগানে। সকাল ১০টার মধ্যে পাতা তুলে তা কারখানায় দিয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে চলে যান অন্য কাজে।

তেঁতুলিয়ার একটি চা-বাগানের মালিক কাজী আনিছুর রহমান জানান, এখানকার চা-শ্রমিকরা আগে পাথর সংগ্রহের কাজ করতেন। তাতে মজুরি বেশি ছিল। এখন তারা দিনে পাথর তোলেন আর রাতে তোলেন চা-পাতা। দুই বেলার আয়ে তাদের পরিবারে সচ্ছলতাও এসেছে।

আরেক চা-শ্রমিক রাজু ইসলাম বলেন, ‘আমি রাতের বেলা চা-পাতা তোলার কাজ করি। আর দিনের বেলা কৃষিকাজ করি। সব মিলে যা আয় হয় তা দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চলে যায়।’

রাতে বাগানে কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় কি না, জানতে চাইলে চা-শ্রমিক মোমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রথম দিকে ভয় ভয় লাগত। পোকামাকড় ভয় পেতাম। কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করায় ভয় কেটে গেছে।

‘এ ছাড়া আমাদের সবার সঙ্গেই টর্চলাইট থাকে। পোকামাকড় থাকলেও চলে যায়।’

বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের চা শিল্পে চাষিদের পাশাপাশি ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা আগে অলস সময় কাটাত। তাদের কোনো কাজ ছিল না।

‘এখন চা বাগানে কাজ করে তারা সচ্ছলতা পেয়েছে। বিশেষ করে যারা রাতে চা-পাতা তোলার কাজ করছেন, তারা বেশি লাভবান হচ্ছেন। কারণ, তারা দিনে অন্য কাজ করে বাড়তি আয় করতে পারছেন।’

দিনের বেলায় চা-বাগানে এখন নারীশ্রমিকদেরই মূলত কাজ করতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।

সূত্র: নিউজবাংলা

নিউজটি শেয়ার করতে পারেন....

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ...