1. yellowhost.club@gmail.com : Tara Bangla News :
  • মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

ফিরে দেখা ২০২১: ফেডারেশন কাপের ‘কেলেঙ্কারি’ ছাপিয়ে মারিয়াদের জয়

  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৬৭

বছরের শুরুতে যে দল ফেডারেশন কাপে সাফল্যের আলোয় ভেসেছিল; বছরের শেষে সেই বসুন্ধরা কিংস একই টুর্নামেন্টে পেল শাস্তি! মাঝের সময়ে ঘটেছে নানা ঘটনা। প্রিমিয়ার লিগ কখনও পিছিয়েছে, কখনও মহামারীর তোয়াক্কা না করে চলেছে! ছেলেদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতার পর শ্রীলঙ্কার আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট থেকে খালি হাতে ফেরার বেদনা সঙ্গী হয়েছে। আছে জাতীয় দলের কোচ তিন দফা বদলের বিস্ময়কর ব্যাপার। ঘটনাবহুল ২০২১ সালে দেশের ফুটবলে সেরা সাফল্য এসেছে মারিয়া-মগিনিদের হাত ধরে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা বাংলাদেশ।

মেয়েদের ফুটবলে আছে প্রাপ্তির শিহরণ। তারকা ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন এ বছরই লিগে গোলের সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন। মেয়েরা জিতেছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা।

বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল জেমি ডের ‘ছুটির গল্প।’ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনের দিন আগে হুট করেই এই ইংলিশ কোচকে ছুটি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাফ ফুটবলে জাতীয় দল খেলে বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুসনের কোচিংয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ আসরে দলের ব্যর্থ মিশন শেষে শ্রীলঙ্কার আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টের জন্য দায়িত্ব পান আবাহনী কোচ মারিও লেমোস। এই পর্তুগিজ কোচও পারেননি সাফল্য এনে দিতে। এই ‘কোচ কাহিনীর’ সবচেয়ে বাজে দিক হচ্ছে-বাংলাদেশ দল এখন কোচহীন! যা বেশ বিরল ঘটনা বৈকি।

বছর জুড়ে ফুটবলের বাঁকে বাঁকে বয়ে চলা নানা গল্প এক নজরে পড়ে নেওয়া যাক।

জয়ে শুরু, শাস্তি দিয়ে শেষ

আগের বছর শুরু হওয়া ফেডারেশন কাপ শেষ হয় এ বছরের ১০ জানুয়ারি। ফাইনালে আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত চিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাউল অস্কার বেসেরার একমাত্র গোলে সাইফ স্পোর্টিংকে হারিয়ে শিরোপা জেতে কিংস। এরপর চার ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করে প্রিমিয়ার লিগের মুকুট ধরে রাখাও। অবশ্য দ্বিতীয়বারের এএফসি কাপে খেলতে যাওয়া কিংসের পথচলা থামে গ্রুপ পর্বে। ফেডারেশন কাপ ও লিগের সাফল্যের ভেলায় চেপে বছরটা শেষ করতে পারেনি ঘরোয়া ফুটবলে নতুন পরাশক্তিরা। ফেডারেশন কাপের চলতি আসরে না খেলায় শাস্তি পেয়েছে কিংস! আগামী ফেডারেশন কাপে খেলতে পারবে না কিংস। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে তাদেরকে।

জুলাইয়ে তিনবার স্থগিত প্রিমিয়ার লিগ
প্রায় ১০ মাস ধরে চলা লিগে সবচেয়ে নাটকীয় মাস ছিল জুলাই। সে সময় তিনদফা স্থগিত হয় লিগ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দেশজুড়ে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেয় সরকার, কিন্তু লিগ চালিয়ে নেওয়ার অদ্ভূতুড়ে অবস্থান নেয় বাফুফে। পরে এখান থেকে সরে এসে ১ জুলাই মাঝ রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লিগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি। এরপর ২৪ জুলাই লিগ শুরুর কথা বলে ২৩ জুলাই ফের তা স্থগিত করে দেয় তারা। পরে ৩০ জুলাই ফের শুরুর ঘোষণা দেয় বাফুফে। ম্যাচ শুরুর স্রেফ এক ঘণ্টা আগে হঠাৎ লিগ স্থগিত করে বিতর্কের জন্ম দেয় তারা। অবশেষে লিগ শেষ হয় গত সেপ্টেম্বরে।

কোচ কাণ্ড ও সাফে ব্যর্থতা
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। জেমি ডের উপর নাকি নাখোশ বাফুফে। যেকোনো মুহূর্তে বিদায় করা হতে পারে জাতীয় দলের এই ইংলিশ কোচকে। গুঞ্জন সত্যি করে ১৭ সেপ্টেম্বরে জেমিকে ছুটি দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু তখন সপ্তাহ দুই বাকি! জাতীয় দলের গুরুভার তুলে দেওয়া হয় সেসময় কিংসের দায়িত্বে থাকা ব্রুসনের কাঁধে। এই স্প্যানিশ কোচ অল্প সময়ের মধ্যেই দলের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেন। জামাল-তপুদের মধ্যে বুনে দেন রক্ষণাত্মক ফুটবলের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে আক্রমণাত্মক খেলার বীজ।

ব্যর্থ শ্রীলঙ্কা মিশনে মালদ্বীপকে হারানোর আনন্দ
শ্রীলঙ্কার প্রাইম মিনিস্টার মাহিন্দা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক ট্রফিতে শনিবার মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। ১৮ বছর পর দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশ জয়ের স্বাদ পেল। ‘প্রাইম মিনিস্টার মহিন্দা রাজাপাকসে টুর্নামেন্টে’ খেলতে যাওয়ার আগের কিছু ঘটনা এদেশের ফুটবলের পেশাদারিত্বকেই করে দেয় প্রশ্নবিদ্ধ! ১০ নভেম্বর শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের আগ মুহূর্তে দায়িত্ব নেন সেই সময়কার আবাহনী কোচ মারিও লেমোস। ২৫ অক্টোবর কাজ শুরু করতে তড়িঘড়ি করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরেছিলেন তিনি, কিন্তু এসে দেখেন ক্যাম্পে খেলোয়াড় মোটে ১০ জন! ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ২৪ জনের মধ্যে মাত্র ১৪ জন নিয়ে ২৮ অক্টোবর প্রস্তুতি শুরু করেন এই পর্তুগিজ কোচ। কোচ ক্যাম্পে হাজির, খেলোয়াড় নেই-এমন অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের কোনো কোচের জন্য বিরল।

মারিয়া-মনিকা-রিপাদের উৎসব
যদিও বয়সভিক্তিক পর্যায়ে, তবে ফুটবলে বছরের সেরা সাফল্য এসেছে মেয়েদের হাত ধরেই। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের পথে ভারতের বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগে এবং ফাইনালে জিতেছে বাংলাদেশ। যদিও ১১ ডিসেম্বর নেপালের বিপক্ষে শুরুটা ছিল না প্রত্যাশা অনুযায়ী; ১-১ ড্র করে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে অবশ্য আর পিছু ফিরে তাকাননি মারিয়া-মগিনি-রিপারা। ভুটানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ভারতকে হারান ১-০ গোলে। এরপর শ্রীলঙ্কাকে ১২-০ গোলে ভাসিয়ে ওঠেন ফাইনালের মঞ্চে। সেখানে আনাই মগিনির একমাত্র গোলে আবারও ভারতকে হারানোর আনন্দে ডানা মেলে বাংলাদেশ।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার আরেক কাণ্ড ঘটে মোহামেডান ও স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের মধ্যেকার ম্যাচে। কিংসের অনুপস্থিতিতে এই দুই দলের ‘এ’ গ্রুপে থেকে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়েছিল আগেই; তারা এদিন মুখোমুখি হয়েছিল গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতার পর খেলোয়াড়রা ছেড়েছিলেন মাঠ। কেউ কেউ টিম বাসেও উঠেছিলেন। নিভে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাড লাইট। পরে খেলোয়াড়দের ডেকে এনে, আলো জ্বালিয়ে টাইব্রেকার আয়োজন করা হয়! তাতে কে গ্রুপ সেরা তা শেষ পর্যন্ত ঠিক করা গেছে বটে কিন্তু ফুটবলের তলানির অন্ধকারটুকু বছর শেষে আড়াল করা যায়নি কোনোভাবেই।

নিউজটি শেয়ার করতে পারেন....

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ...