1. yellowhost.club@gmail.com : Tara Bangla News :
  • শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

২০২১ সালের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ৪৮ জন

  • আপডেট: শনিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৯১

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ও গুলিবিনিময়ে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ ২২ জন মাদককারবারী, বিভিন্ন মামলার আসামী ৯ জন এবং ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ১১জন নিহত হয়েছেন। বাকী ৬ জন অন্যান্য পেশায় জড়িত ছিলেন। এ সংক্রান্ত কিছু কেস স্টাডি নিম্নে উল্লেখ করা

১২ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা গ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মো. আলমগীর (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি মো. আলমগীর ওরফে আলম, ডাকাত দলের সদস্য ছিল।

২৬ নভেম্বর, ২০২১ কক্সবাজারের টেকনাফ বন্দরের বিপরীতে পাহাড়ি এলাকায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কেফায়েত উল্লাহ ও কোরবান আলী প্রকাশ নামের দুই জন রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি নিহত কেফায়েত উল্লাহ ও কোরবান আলী প্রকাশ চিহ্নিত ডাকাত ও মাদককারবারি। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
২৯ নভেম্বর, ২০২১ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি মো.সাব্বির হোসেন (২৮) ও সাজন (৩২) জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ১৭ আগষ্ট কক্সবাজার টেকনাফের হোয়াইক্যং এবং টেকনাফের বিজভীখাল এলাকায় বিজিবি সাথে মাদককারবারিদের বন্দুকযুদ্ধে মীর কাসেম (২৫) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে এবং অপর একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নদীর স্রোতে তলিয়ে যান।

এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নিখোঁজ বা গুম হওয়ার অধিকাংশ ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগীদের দাবি মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকে কাউকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করলেও সংশ্লিষ্ট বাহিনী কর্তৃক তাদের গ্রেফতার বা আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানাতে এসব ঘটনার কোন অভিযোগ নেয়া হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে গুম হওয়ার বেশ কয়েকদিন পর তাদের কোন একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন ১১ জন। পরবর্তীতে ৭জনকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ও চারজন এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারংবার দাবি করা সত্বেও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ক্ষেত্রে সুনির্দিস্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কোন ব্যাখ্যা বা তথ্য দেওয়া হয় না। কেস স্টাডি নিম্নে দেওয়া হলো-

গত ২রা জুন, ২০২১ নারায়ণগঞ্জের তিনজনকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়, ২৫ দিন পার হলেও স্বজনরা এখন পর্যন্ত তাঁর কোন খোঁজ পায়নি। নিখোঁজ তিনজন হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী গ্রামের বাসিন্দা মো. নোমান, মো. নাছিম ও বগুড়ার শহিদুল ইসলাম। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ থানা পুলিশ কোন তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। অপর দিকে ৪ আগস্ট ২০২১ রিজওয়ান হাসান রাকিন সকাল ৮টা ৪০মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কোথায় আছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কিছু বলতেও পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রিজওয়ানের বাবা। রিজওয়ান হাসান রাকিনের নানা ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ সেই ডায়েরি নেয়নি। তবে তিনি একটি নোট রেখে এসেছিলেন। পুলিশ জিডি নেয় গত ৩ সেপ্টেম্বর। এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই। তাছাড়া সাতক্ষীরা মোখলেছসহ আগের বছরগুলোতে যারা নিখোঁজ হয়েছেন তাঁদেরও কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ১১ জন মারা গেছেন। কেস স্টাডি নিম্নে দেওয়া হলো-

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাবলাতলা ঢোস এলাকা থেকে ৫ জেলে একটি ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে সাগরে রওনা দেয়। এসময় পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের এএসআই মামুনসহ ৪ পুলিশ সদস্য অপর একটি ট্রলার নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়ার পরে জেলেদের ট্রলার ফের বাবলাতলা ছোট ঢোসের খালে প্রবেশ করে এবং ৫ জেলের মধ্যে ৪জন পালিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা একমাত্র জেলে মো. সুজন হাওলাদারকে (৩০) নৌ-পুলিশের সদস্যরা আটক করে। পরে তাকে স্থানীয়রা অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। মো. সুজন হাওলাদারের পরিবারসহ স্থানীয়দের দাবি নৌ-পুলিশের সদস্যদের নির্যাতনে সুজনের মৃত্যু হয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ যশোরে চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার রবিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ‘পুলিশ হেফাজতে’মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারে গণপিটুনির শিকার রবিউলকে বিকাল ৪টা ৩৮মিনিটে জরুরি বিভাগে আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ তাঁকে নিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে রবিউলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনে পুলিশ।

৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ রাতে বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী হামিদ খান সড়কের নিজ বাড়ি সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন রেজা। রাত সাড়ে আটটার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. মহিউদ্দিন সেখান থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। পরে এসআই মো. মহিউদ্দিন জানান, রেজাউল করিমের কাছ থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং চার পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। রাতেই রেজাউল করিমকে আসামি করে কোতয়ালী মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা করেন এসআই মো. মহিউদ্দিন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন শুক্রবার রেজাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। বাবা ইউনুস মুন্সি জানান, ‘রেজার শরীরে মারা যাওয়ার মতো কঠিন কোনো রোগ ছিল না। তবে শুক্রবার আদালতে সোপর্দের সময় রেজা গুরুতর অসুস্থ ছিল। সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিল না। আদালতের নির্দেশে রেজাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জানুয়ারী, ২০২১ দিবাগত রাতে রেজাউলের মৃত্যু হয় ।’

কারা হেফাজতে মৃত্যু

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে কারা হেফাজতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে অসুস্থতাজনিত কারণে। একজন বন্দিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে অপর এক বন্দি, একজন আত্মহত্যা ও একজন শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কারাগারের বাইরের হাসপাতালে প্রতি মাসে বন্দিদের মৃত্যু হয় এবং কারাগারে বন্দীদের অপর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিলক্ষিত হয়। কেস স্টাডি নিম্নে দেওয়া হলো-

১০ জুলাই গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশু হাজতি সিহাব মিয়া (১৬) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সন্ধ্যায় রুমের ভেতর অন্যান্য হাজতিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে হাজতিদের থাকার কক্ষের ভেতরে কোনো একটি বস্তুর সঙ্গে আঘাত লেগে সিহাব আহত হয়। পরে দ্রুত চিকিৎসার জন্য টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারাভ্যান্তরে বন্দি নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে, ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের দুর্গাপুরের শাহজাহান বিলাস, কয়েদি নম্বর ৭১৫১/এ, ডাকাতি ও হত্যা মামলায় ৫৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ২৬ বছর ধরে তিনি কুমিল্লা কারাগারে বন্দী। সম্প্রতি তিনি ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এক পুরিয়া গাঁজা, নগদ ৬০০ টাকাসহ কারারক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন। এ প্রেক্ষিতে কারাভ্যন্তরে কেস টেবিলের সামনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্রকাশ্যে বন্দি বিলাসের দুই হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয় যার ভিডিও ইউটিউব ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বন্দি নির্যাতনের বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী মোহাম্মদ শরীফ ও কারারক্ষী অনন্ত চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর কারারক্ষী অনন্ত চন্দ্র দাস আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

নিউজটি শেয়ার করতে পারেন....

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ...